Home / Blog
সন্ধ্যার পর ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় বসে মাহফুজ এখনো পড়াচ্ছে—কিন্তু কোনো ক্লাসরুমে নয়। ল্যাপটপের সামনে বসে সে রেকর্ড করছে একটি নতুন ভিডিও। কয়েক বছর আগেও সে একটি কোচিং সেন্টারে ঘণ্টাপ্রতি বেতনে পড়াত। আজ তার প্রধান আয়ের উৎস অনলাইন কোর্স তৈরি করে আয়। কেন এই পথ? কীভাবে সে সিদ্ধান্ত নিল? আর একজন সাধারণ শিক্ষক বা দক্ষ মানুষ কি সত্যিই এই পথে অনলাইন ইনকাম গড়তে পারে?
বাংলাদেশে অনলাইন আয়ের প্রয়োজন এখন আর ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। চাকরির প্রতিযোগিতা, সীমিত সুযোগ, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচ—সব মিলিয়ে মানুষ বিকল্প পথ খুঁজছে। ঠিক এই বাস্তবতায় অনলাইন কোর্স হয়ে উঠেছে এমন একটি মাধ্যম, যেখানে জ্ঞান একবার তৈরি করলে বারবার আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
এই লেখায় আপনি শুধু “কীভাবে কোর্স বানাবেন” তা নয়, বরং বুঝতে পারবেন—online income আসলে কী, কোথায় ভুল হয়, কোথায় সম্ভাবনা তৈরি হয়, আর বাংলাদেশি বাস্তবতায় কীভাবে এই পথটা বাস্তব করা যায়।
অনলাইন কোর্স মানে শুধু ভিডিও বানানো নয়। এটি হলো একটি সমস্যার সমাধানকে কাঠামোবদ্ধভাবে শেখানো। আপনার জানা কোনো বিষয়—ইংরেজি, গণিত, গ্রাফিক ডিজাইন, Excel, এমনকি রান্না বা ফ্রিল্যান্সিং—সবই কোর্সে রূপ দেওয়া যায়।
এই আয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্কেল। একবার বানানো একটি কোর্স একই দিনে ১০ জন, ১০০ জন বা ১,০০০ জন মানুষ কিনতে পারে। এখানে সময় আর আয়ের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে, অনলাইন শেখার প্রবণতাও বাড়ছে (BTRC, unesco.org)। এই বাস্তবতায় অনলাইন কোর্স একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
ফ্রিল্যান্সিং বা রিমোট জবে আপনি সময়ের বিনিময়ে টাকা পান। কাজ না করলে আয় বন্ধ। কিন্তু অনলাইন কোর্স তৈরি করে আয় একটি asset-based income।
একটি বাস্তব তুলনা:
ফ্রিল্যান্স কাজ: দিনে 6 ঘণ্টা = আয়
অনলাইন কোর্স: একবার বানানো = বারবার আয়
এ কারণেই অনেক ফ্রিল্যান্সার এখন Fiverr বা Upwork-এর পাশাপাশি নিজের কোর্স বানাচ্ছে।
(সহায়ক পড়া: https://webnewsdesign.com/blog/online-income-guide)
মাহফুজ আগে SSC গণিত পড়াত। মাস শেষে আয় হতো অনিশ্চিত। কোভিডের সময় কোচিং বন্ধ হলে সে প্রথম অনলাইন ক্লাস নেয় Zoom-এ। পরে সে বুঝতে পারে—এই ক্লাসগুলো রেকর্ড করে কোর্স বানানো যায়।
সে একটি পূর্ণাঙ্গ SSC Math Course তৈরি করে 10 Minute School-এর মতো প্ল্যাটফর্মে প্রস্তাব পাঠায়। শুরুতে রিজেকশন আসে। পরে সে নিজের ওয়েবসাইটে কোর্স বিক্রি শুরু করে।
আজ তার কোর্স থেকে নিয়মিত আয় হয়। পাশাপাশি সে YouTube দিয়ে ফ্রি কনটেন্ট দিয়ে কোর্সের মার্কেটিং করে। তার গল্প দেখায়—ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়।
বাংলাদেশি বাজারে জনপ্রিয় কোর্সগুলো হলো:
একটি সহজ দৃশ্যকল্প:
কোর্সের দাম: 1,000 টাকা
মাসে বিক্রি: 100 জন
মাসিক আয়: 100,000 টাকা
এই আয় একাধিক কোর্স হলে আরও বাড়ে।
আপনি কোর্স বিক্রি করতে পারেন বিভিন্ন জায়গায়:
বাংলাদেশি প্ল্যাটফর্ম
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম
নিজস্ব ওয়েবসাইট
Fiverr ও Upwork-এও এখন “Course Creator” বা “Online Trainer” হিসেবে রিমোট কাজ পাওয়া যায় (upwork.com)।
(আরও পড়ুন: https://webnewsdesign.com/blog/freelancing-skills-demand)
Step 1: আপনি কী শেখাতে পারেন তা নির্ধারণ করুন
Step 2: একটি নির্দিষ্ট সমস্যা বেছে নিন
Step 3: কোর্সের সিলেবাস লিখুন
Step 4: মোবাইল বা ল্যাপটপে ভিডিও রেকর্ড করুন
Step 5: সহজ ভাষায় এডিট ও প্রকাশ করুন
প্রথম কোর্স নিখুঁত হবে না—এটাই স্বাভাবিক। ফিডব্যাক থেকেই উন্নতি আসে।
ব্যর্থ কোর্সগুলোর সাধারণ সমস্যা:
সফল কোর্সগুলো:
এই পার্থক্যটাই আয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
অনলাইন কোর্সেও ঝুঁকি আছে:
নিজের কনটেন্টে কপিরাইট নোট রাখুন। পেমেন্টের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত গেটওয়ে ব্যবহার করুন (PayPal, Stripe – paypal.com, stripe.com)। বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইন লেনদেনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে (bb.org.bd)।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মতে, ভবিষ্যতের কাজ হবে জ্ঞান ও স্কিলভিত্তিক (weforum.org)। অনলাইন কোর্স এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বাংলাদেশের তরুণরা যদি এখন থেকেই মানসম্মত কোর্স তৈরি করে, এটি হতে পারে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র।
অনলাইন কোর্স তৈরি করে আয় কোনো শর্টকাট নয়—এটি ধৈর্য ও বিশ্বাসযোগ্যতার পথ। কিন্তু একবার সঠিকভাবে শুরু করলে এটি আপনাকে সময় ও আয়ের স্বাধীনতা দিতে পারে।
আপনার জ্ঞান হয়তো এখনো অন্যের উপকারে লাগেনি। আজই সেটিকে কোর্সে রূপ দিন।
👉 এই সাইটে আরও গাইড পড়ুন
👉 পরবর্তী আর্টিকেল দেখুন: কীভাবে অনলাইন কোর্স মার্কেটিং করে বিক্রি বাড়ানো যায়

© 2013 - 2026 webnewsdesign.com. All Rights Reserved.