Home / Blog
বাংলাদেশে এখন এমন খুব কম পরিবার আছে, যেখানে অনলাইন ইনকামের কথা একবারও আলোচনায় আসে না। চাকরি, পড়াশোনা কিংবা ছোট ব্যবসার আয়ের পাশাপাশি মানুষ খুঁজছে নতুন কোনো পথ। ঠিক এই জায়গাতেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ব্লগ লিখে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়ে আয় করার টিপস কী? কেন ব্লগ? কীভাবে আস্থা তৈরি হয়? আদৌ কি নিয়মিত আয় সম্ভব?
অনলাইন ইনকাম এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি অনেকের জন্য নিরাপত্তা। কারণ চাকরি বদলাতে পারে, ব্যবসা ক্ষতিতে যেতে পারে, কিন্তু দক্ষতা আর ডিজিটাল সম্পদ থাকলে আপনি একা নন। একটি ভালো ব্লগ সেই সম্পদের মতো—যেটি ধীরে ধীরে বড় হয়, বিশ্বাস তৈরি করে এবং আয়ের পথ খুলে দেয়।
এই আর্টিকেলে আপনি কোনো কল্পকাহিনি পাবেন না। পাবেন বাস্তব গল্প, পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং এমন দিকনির্দেশনা—যা একজন একেবারে নতুন মানুষকেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ধারণা স্পষ্ট করে দেবে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মানে অন্যের পণ্য বা সেবা সুপারিশ করে বিক্রি হলে কমিশন পাওয়া।
আপনি নিজে পণ্য বানাচ্ছেন না, কাস্টমার সাপোর্ট দিচ্ছেন না—শুধু বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিচ্ছেন।
ধরুন, আপনি একটি ব্লগে লিখলেন “শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা অনলাইন কোর্স”। সেই লেখায় যদি কোনো প্ল্যাটফর্মের লিংক থাকে এবং কেউ সেটি কিনে, তাহলে আপনি কমিশন পাবেন।
বিশ্বব্যাপী এটি একটি প্রতিষ্ঠিত মডেল (source: Amazon Associates Help, Shopify Affiliate Guide)। বাংলাদেশে Daraz Affiliate, দেশীয় কোর্স প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক টুলস—সবই এখন সহজলভ্য।
রিফাত চাঁদপুরের একজন ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী। সে শুরুতে Fiverr-এ কাজ খুঁজছিল, কিন্তু প্রতিযোগিতা বেশি ছিল। পরে সে নিজের শেখা বিষয়—“ফ্রিল্যান্সিং টুলস”—নিয়ে ব্লগ লেখা শুরু করে।
প্রথম কয়েক মাস কোনো আয় হয়নি। কিন্তু সে নিয়মিত টুল রিভিউ লিখত। এক বছর পর তার ব্লগ থেকে মাসে গড়ে ২০০–৩০০ ডলার অ্যাফিলিয়েট কমিশন আসতে শুরু করে।
আজ সে Upwork-এ কাজও পায়, কারণ তার ব্লগই তার দক্ষতার প্রমাণ।
এই সেকশনেই মূল ভিত্তি পরিষ্কার করা দরকার।
ব্লগ লিখে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়ে আয় করার টিপস মানে শুধু লিংক বসানো নয়—এটি বিশ্বাসের খেলা।
ভিত তৈরি হয় তিন ধাপে:
যে ব্লগার নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, তার লিংকে মানুষ বেশি ক্লিক করে। গুগলও এমন কনটেন্টকেই অগ্রাধিকার দেয় (source: Google Search Central)।
এখানে Primary + Secondary Keyword স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত।
অনেকেই online income বলতে শুধু ফ্রিল্যান্সিং বোঝে। কিন্তু অ্যাফিলিয়েট ব্লগিং একটি passive income মডেল।
একটি লেখা আজ লিখলে সেটি ৬ মাস, এমনকি ২ বছর পরও কমিশন দিতে পারে।
বাংলাদেশে বসেই আপনি আন্তর্জাতিক কোম্পানির পণ্য প্রমোট করতে পারেন। ডলার ইনকাম হওয়ায় এটি আরও আকর্ষণীয়।
এই কারণে অনেক ফ্রিল্যান্সার ব্লগকে “দ্বিতীয় আয়ের স্তম্ভ” হিসেবে ব্যবহার করে।
নিস মানে নির্দিষ্ট বিষয়।
ভুল নিস মানেই হতাশা।
বাংলাদেশে কার্যকর নিস:
Forex বা ডিজিটাল স্কিল টার্ম থাকলে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা দিন। যেমন—Forex মানে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, যেখানে ঝুঁকি বেশি, তাই সতর্কতা জরুরি।
Step 1: ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগ সেটআপ
Step 2: একটি সমস্যাভিত্তিক আর্টিকেল লিখুন
Step 3: বিশ্বস্ত অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যোগ দিন
Step 4: রিভিউ ও গাইড লিখুন
Step 5: SEO ও শেয়ারিং
সহায়ক টুলস:
অনেক ব্লগার ব্লগ থেকেই কাজ পায়।
কারণ:
Fiverr-এ “Affiliate Content Writer” বা “Blog Reviewer” গিগ খুব জনপ্রিয়।
Upwork-এ প্রোফাইলে ব্লগ থাকলে ইন্টারভিউ রেট বাড়ে (source: upwork.com/resources)।
আরও পড়ুন:
https://webnewsdesign.com/blog/freelancing-career-guide
https://webnewsdesign.com/blog/seo-for-beginners
ব্যর্থদের ভুল
সফলদের অভ্যাস
একটি টেক্সট চার্ট কল্পনা করুন:
সময় → কনটেন্ট → বিশ্বাস → ক্লিক → কমিশন
⚠ ভুয়া অ্যাফিলিয়েট স্কিম
⚠ কপি কনটেন্ট
⚠ অতিরিক্ত লিংক
বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া কাজ করবেন না (source: Shopify Affiliate Guide, Google Webmaster Guidelines)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, trust-based content ভবিষ্যতেও সবচেয়ে মূল্যবান থাকবে (source: HubSpot Content Trends)।
AI থাকলেও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটের বিকল্প নেই।
আজ শুরু করলে ১–২ বছরে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।
সবশেষে পরিষ্কার কথা—ব্লগ লিখে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়ে আয় করার টিপস কোনো গোপন ফর্মুলা নয়। এটি একটি ধীর কিন্তু শক্ত পথ।
আপনি যত বেশি মানুষের উপকার করবেন, আয় তত স্বাভাবিকভাবেই আসবে।
আজই শুরু করুন। প্রথম আয় ছোট হতে পারে, কিন্তু সেটিই আপনার আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি।
এই সাইটে আরও গাইড পড়ুন, পরবর্তী আর্টিকেল দেখুন—আপনার অনলাইন ইনকামের যাত্রা এখান থেকেই এগোতে পারে।
© 2013 - 2026 webnewsdesign.com. All Rights Reserved.