Home / Blog

বাংলাদেশে অনলাইন টিউটোরিয়াল করে ঘরে বসে আয়

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট বানানো শিখুন এবং Online Income করুন | সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

Posted: Friday, 27 February 2026 | পড়া হয়েছে 6 বার

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট বানানো: অনলাইন ইনকামের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ

ভূমিকা: একটি স্বপ্নের গল্প থেকে শুরু

রাজশাহীর ছেলে সাকিব। বয়স মাত্র ২৩। অনার্স শেষ করে চাকরির পেছনে ঘুরছিলেন মাসের পর মাস। প্রতিটি ইন্টারভিউতে হতাশা, প্রতিটি প্রত্যাখ্যানে মনে হতো জীবনটা আটকে গেছে। তারপর একদিন ইউটিউব স্ক্রল করতে করতে দেখলেন একটা ভিডিও — “ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট বানানো শিখে মাসে ৫০ হাজার টাকা আয়।” প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু কৌতূহলবশত শুরু করলেন। আজ মাত্র দেড় বছর পর সাকিবের মাসিক online income প্রায় ৮০,০০০ টাকা — শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে দিয়ে।

এই গল্পটা শুধু সাকিবের না। বাংলাদেশে এখন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ওয়ার্ডপ্রেস শিখে ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন ব্যবসায় সফল হচ্ছেন। Upwork, Fiverr এবং Toptal-এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপারদের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। আর W3Techs-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট ওয়েবসাইটের ৪৩%-এরও বেশি চলে ওয়ার্ডপ্রেসে।

তাহলে প্রশ্ন একটাই — আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন?

এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে জানবো কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট বানানো শিখবেন, কোথা থেকে শুরু করবেন, কীভাবে আয় করবেন, এবং কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস কী এবং কেন এটি এত জনপ্রিয়?

ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি ওপেন-সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যেটা ব্যবহার করে কোনো কোডিং জ্ঞান ছাড়াও পেশাদার ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। ২০০৩ সালে এর যাত্রা শুরু হলেও আজও এটি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের দুনিয়ায় রাজত্ব করছে।

কিন্তু কেন ওয়ার্ডপ্রেস? কারণ এটি:

সহজ: ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ পদ্ধতিতে পেজ তৈরি করা যায়। Elementor বা Divi-র মতো পেজ বিল্ডার ব্যবহার করে ডিজাইনার না হলেও সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি সম্ভব।

বহুমুখী: ব্লগ, ই-কমার্স, পোর্টফোলিও, নিউজপোর্টাল, মেম্বারশিপ সাইট — সব ধরনের ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বানানো যায়।

বিনামূল্যে: ওয়ার্ডপ্রেস নিজে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শুধু হোস্টিং এবং ডোমেইনের জন্য খরচ করতে হয়।

বিশাল কমিউনিটি: সারা বিশ্বে লাখো ডেভেলপার এবং ডিজাইনার ওয়ার্ডপ্রেস কমিউনিটির অংশ। যেকোনো সমস্যায় সহজেই সমাধান পাওয়া যায়।

ঢাকার মিরপুরের রাহেলা বেগম একজন গৃহিণী। ছেলেমেয়ে সামলানোর ফাঁকে ফাঁকে মোবাইলে ভিডিও দেখে ওয়ার্ডপ্রেস শিখেছেন। আজ তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য ওয়েবসাইট বানিয়ে দিচ্ছেন মাসে ২০-২৫ হাজার টাকায়। রাহেলার গল্প প্রমাণ করে — ওয়ার্ডপ্রেস শুধু প্রযুক্তি জানা মানুষদের জন্য না।

শুরু করার আগে যা জানতেই হবে: ডোমেইন হোস্টিং

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট বানানো শুরু করতে হলে আপনার দরকার দুটো জিনিস: একটি ডোমেইন নাম এবং একটি হোস্টিং সার্ভিস।

ডোমেইন নাম হলো আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা, যেমন yourname.com। বাংলাদেশে Namecheap, GoDaddy বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক ৮০০-১৫০০ টাকায় ডোমেইন কেনা যায়।

হোস্টিং হলো সেই জায়গা যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে। শুরুতে Bluehost, SiteGround, বা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ExonHost বা BDwebs ব্যবহার করতে পারেন। মাসিক খরচ ২০০-৫০০ টাকার মধ্যে।

সতর্কতা: অনেকেই সস্তা হোস্টিং কিনে পরে পস্তান। সার্ভার ডাউন, ধীরগতি, বা নিরাপত্তার সমস্যা দেখা দেয়। একটু বেশি খরচ করে ভালো হোস্টিং কিনলে ভবিষ্যতে অনেক ঝামেলা বাঁচে।

ময়মনসিংহের আরিফুল ইসলাম প্রথমবার সস্তা হোস্টিং কিনেছিলেন। তিন মাস পর হোস্টিং কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়, সব ডেটা নষ্ট হয়। দ্বিতীয়বার ভালো হোস্টিং নিয়ে আজ তিনি সফলভাবে ই-কমার্স সাইট চালাচ্ছেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল থেকে প্রথম ওয়েবসাইট: ধাপে ধাপে গাইড

ভালো হোস্টিং কেনার পর ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করা এখন মাত্র কয়েক মিনিটের কাজ। বেশিরভাগ হোস্টিং কোম্পানি Softaculous বা Installatron দিয়ে এক ক্লিকে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার সুবিধা দেয়।

ধাপ : হোস্টিং cPanel- লগইন করুন হোস্টিং কেনার পর আপনি একটি ইমেইল পাবেন লগইন তথ্যসহ। সেটা দিয়ে cPanel-এ ঢুকুন।

ধাপ : Softaculous দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করুন cPanel-এ “Softaculous Apps Installer” খুঁজে পাবেন। সেখানে WordPress-এ ক্লিক করে ইনস্টল করুন। ডোমেইন নাম, অ্যাডমিন ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিন।

ধাপ : থিম নির্বাচন করুন ইনস্টলেশনের পর WordPress Dashboard-এ যান। Appearance > Themes-এ গিয়ে আপনার পছন্দমতো থিম ইনস্টল করুন। শুরুতে Astra, OceanWP, বা Hello Elementor ব্যবহার করতে পারেন — এগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং অনেক দ্রুত লোড হয়।

ধাপ : প্রয়োজনীয় প্লাগিন ইনস্টল করুন ওয়ার্ডপ্রেসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ৬০,০০০-এরও বেশি প্লাগিন। শুরুতে যেগুলো লাগবে:

  • Elementor (পেজ বিল্ডার)
  • Yoast SEO (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন)
  • WooCommerce (ই-কমার্স, যদি দরকার হয়)
  • Wordfence (নিরাপত্তা)
  • UpdraftPlus (ব্যাকআপ)

ধাপ : পেজ তৈরি করুন Pages > Add New-এ গিয়ে Home, About, Contact, Blog — এই পেজগুলো তৈরি করুন। Elementor দিয়ে ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ করে ডিজাইন করুন।

প্রথম ওয়েবসাইট তৈরিতে হয়তো ২-৩ দিন লাগবে। কিন্তু দ্বিতীয় থেকে আস্তে আস্তে দক্ষতা বাড়বে।

কোন ধরনের ওয়েবসাইট বানিয়ে আয় করবেন?

এখানেই অনেকে ভুল করেন। ওয়ার্ডপ্রেস শিখলেই হবে না — কোন ধরনের ওয়েবসাইট বানাবেন সেটা ঠিক করতে হবে। বাংলাদেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা যেগুলোর:

ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট: ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা এখন অনলাইনে উপস্থিতি চাইছেন। রেস্তোরাঁ, ক্লিনিক, শপিং স্টোর, ল’ ফার্ম — সবাই ওয়েবসাইট চায়। প্রতিটি সাইটের জন্য ৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা নেওয়া সম্ভব।

কমার্স সাইট: WooCommerce দিয়ে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন শপ তৈরি করা যায়। বাংলাদেশে ই-কমার্স বাজার দ্রুত বাড়ছে। একটি ই-কমার্স সাইটের জন্য ১৫,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া যায়।

ব্লগ বা নিশ সাইট: নিজের ব্লগ তৈরি করে Google AdSense বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দিয়ে আয় করা যায়। এটি প্যাসিভ ইনকামের একটি দুর্দান্ত পথ।

নিউজ পোর্টাল: বাংলাদেশে অনলাইন নিউজ পোর্টালের চাহিদা অসাধারণ। একটি পেশাদার নিউজ পোর্টাল তৈরি করে দিলে ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পাওয়া সম্ভব।

শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট: LMS (Learning Management System) প্লাগিন দিয়ে অনলাইন কোর্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায়।

সিলেটের ফাহিম আহমেদ শুধু রেস্তোরাঁ এবং কফি শপের জন্য ওয়েবসাইট বানিয়ে দেন। এই একটি নিশেতেই তিনি মাসে ৪-৫টি ক্লায়েন্ট পান। তার মাসিক আয় এখন ৬০,০০০ টাকারও বেশি।

ওয়েবসাইট ডিজাইন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে webnewsdesign.com/blog/-এর গাইডগুলো পড়ে দেখতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কীভাবে কাজ পাবেন?

দক্ষতা অর্জনের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রথম ক্লায়েন্ট পাওয়া। এখানে অনেকেই হাল ছেড়ে দেন। কিন্তু সঠিক কৌশলে এগোলে কাজ পাওয়া কঠিন না।

Fiverr: এটি শুরু করার জন্য সবচেয়ে ভালো প্ল্যাটফর্ম। নিজের সার্ভিস গিগ আকারে পোস্ট করুন। পোর্টফোলিও দিন, প্রথমে কম দামে কাজ করুন, রিভিউ সংগ্রহ করুন।

Upwork: একটু বেশি প্রতিযোগিতামূলক, কিন্তু এখানে বড় প্রজেক্ট পাওয়া যায়। একটি শক্তিশালী প্রোফাইল তৈরি করুন, দক্ষতা টেস্ট দিন।

স্থানীয় বাজার: Facebook গ্রুপ, LinkedIn, এবং মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় ক্লায়েন্ট পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীরা এখন ওয়েবসাইটের গুরুত্ব বুঝছেন।

পোর্টফোলিও: কাজ পাওয়ার আগেই ২-৩টি ডেমো ওয়েবসাইট তৈরি করুন — ভিন্ন ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির জন্য। এটাই হবে আপনার পোর্টফোলিও।

প্রোপোজাল লেখার দক্ষতা: ক্লায়েন্টকে বোঝান আপনি তার সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। শুধু “আমি ভালো ডেভেলপার” বললে হবে না — তার ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইটটি কীভাবে কাজ করবে সেটা দেখান।

SEO শেখার গুরুত্ব: শুধু বানালেই হবে না

অনেকে ওয়েবসাইট বানিয়ে থেমে যান। কিন্তু একটি ওয়েবসাইটকে সফল করতে হলে SEO (Search Engine Optimization) জানতেই হবে। SEO জানলে আপনি ক্লায়েন্টকে আরও বেশি মূল্য দিতে পারবেন এবং নিজের সাইটও গুগলে র‌্যাংক করাতে পারবেন।

অনপেজ SEO: প্রতিটি পেজে সঠিক কীওয়ার্ড, মেটা টাইটেল, মেটা ডেসক্রিপশন ব্যবহার করতে হবে। Yoast SEO প্লাগিন এই কাজটা অনেক সহজ করে দেয়।

টেকনিক্যাল SEO: ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড, মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেস, এবং সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে। Google PageSpeed Insights দিয়ে আপনার সাইটের স্কোর চেক করুন।

কন্টেন্ট: নিয়মিত মানসম্পন্ন কন্টেন্ট পাবলিশ করুন। এটা আপনার সাইটকে গুগলের চোখে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

চট্টগ্রামের তানভীর ওয়ার্ডপ্রেস শিখেছিলেন শুধু ওয়েবসাইট বানাতে। পরে SEO শিখে তিনি ক্লায়েন্টদের SEO সার্ভিসও দেওয়া শুরু করেন। এখন প্রতিটি ক্লায়েন্ট থেকে মাসিক রিটেইনার নেন ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা। এটা তার আয় তিনগুণ করে দিয়েছে।

SEO এবং ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কিত আরও টিপস পেতে webnewsdesign.com/blog/ ভিজিট করতে পারেন।

সাধারণ ভুল এবং কীভাবে এড়াবেন

অনেকেই ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে গিয়ে কিছু সাধারণ ভুল করেন, যা তাদের অগ্রগতি থামিয়ে দেয়।

ভুল : অতিরিক্ত প্লাগিন ব্যবহার প্রয়োজনের বেশি প্লাগিন ইনস্টল করলে ওয়েবসাইট ধীর হয়ে যায়। শুধু প্রয়োজনীয় প্লাগিন রাখুন।

ভুল : ব্যাকআপ না রাখা নিয়মিত ব্যাকআপ না নিলে হ্যাক বা সার্ভার সমস্যায় সব হারাতে পারেন। UpdraftPlus দিয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ সেট করুন।

ভুল : পাইরেটেড থিম বা প্লাগিন অনেকেই বিনামূল্যে প্রিমিয়াম থিম বা প্লাগিন ডাউনলোড করেন। এগুলোতে প্রায়ই ম্যালওয়্যার থাকে যা আপনার সাইট হ্যাক করিয়ে দিতে পারে।

ভুল : শেখা ছেড়ে দেওয়া প্রথম দিকে কঠিন মনে হলে অনেকেই ছেড়ে দেন। কিন্তু ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে ২-৩ মাসেই মোটামুটি দক্ষ হওয়া যায়।

ভুল : পোর্টফোলিও না বানানো ক্লায়েন্ট পাওয়ার আগেই পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে। এটা না থাকলে কেউ কাজ দিতে চাইবে না।

কত সময় লাগে এবং কত আয় সম্ভব?

এটাই সবার প্রথম প্রশ্ন। বাস্তব উত্তর হলো — নির্ভর করে আপনি কতটুকু সময় দিচ্ছেন তার ওপর।

শেখার সময়সীমা:

  • বেসিক ওয়েবসাইট তৈরি: ৪-৬ সপ্তাহ (প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা)
  • ই-কমার্স সাইট: ২-৩ মাস
  • কাস্টম থিম ডেভেলপমেন্ট: ৪-৬ মাস

আয়ের সম্ভাবনা:

  • শুরুতে (০-৬ মাস): ১০,০০০ – ২৫,০০০ টাকা/মাস
  • মধ্যবর্তী (৬-১২ মাস): ৩০,০০০ – ৬০,০০০ টাকা/মাস
  • অভিজ্ঞ (১ বছরের পর): ৭০,০০০ – ২,০০,০০০ টাকা/মাস

Payoneer-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৭-১৫ ডলার আয় করেন। অভিজ্ঞ ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপাররা ঘণ্টায় ২৫-৫০ ডলারও পান।

BTRC (Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা এখন ৬ লাখেরও বেশি এবং এই সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে।

ওয়ার্ডপ্রেস শেখার সেরা রিসোর্স

ভালো রিসোর্স ব্যবহার না করলে শেখার গতি কমে যায়। বাংলাদেশিদের জন্য সেরা কিছু উৎস:

বিনামূল্যে:

  • WordPress.org-এর অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন (ইংরেজিতে, তবে অত্যন্ত বিস্তারিত)
  • YouTube-এ বাংলায় অনেক চ্যানেল আছে যেখানে ধাপে ধাপে শেখানো হয়
  • WPBeginner — ইংরেজিতে ওয়ার্ডপ্রেসের সবচেয়ে বড় ফ্রি রিসোর্স

পেইড কোর্স:

  • Udemy-তে ওয়ার্ডপ্রেস কোর্স (৫০০-১৫০০ টাকায় পাওয়া যায়)
  • বাংলাদেশি প্ল্যাটফর্ম যেমন Shikho বা 10 Minute School-এও কিছু কোর্স আছে

ফোরাম কমিউনিটি:

  • WordPress Bangladesh Facebook গ্রুপ
  • Stack Overflow
  • WordPress.org সাপোর্ট ফোরাম

webnewsdesign.com/blog/-এ ওয়ার্ডপ্রেস এবং ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে নিয়মিত গাইড প্রকাশিত হয়, যা বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

ঝুঁকি এবং প্রতিকার: বাস্তবতার মুখোমুখি

ওয়ার্ডপ্রেস ক্যারিয়ার গোলাপি পথ না। কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ আছে:

প্রতিযোগিতা: বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। কিন্তু গুণমান এবং বিশেষজ্ঞতা দিয়ে আলাদা হওয়া সম্ভব।

ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট: কঠিন ক্লায়েন্ট পাবেন। স্পষ্ট চুক্তি এবং যোগাযোগে পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন।

পেমেন্ট সমস্যা: বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট পেতে Payoneer বা Wise অ্যাকাউন্ট খুলুন। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সাররা এখন সহজেই ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আনতে পারছেন।

প্রযুক্তির পরিবর্তন: ওয়েব প্রযুক্তি দ্রুত বদলায়। প্রতিনিয়ত আপডেট থাকতে হবে। AI টুলস এখন ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্টকে সহজ করছে, তাই এগুলো শেখাও গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার: আজই শুরু করুন

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট বানানো শুধু একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয় — এটি আপনার জীবন বদলে দেওয়ার সুযোগ। সাকিব, রাহেলা, ফাহিম, তানভীর — এরা সবাই সাধারণ মানুষ, যারা সাধারণ অবস্থান থেকে শুরু করে অসাধারণ ফলাফল পেয়েছেন।

মনে রাখুন:

প্রথমে শিখুন, তারপর ফ্রি কাজ করে অভিজ্ঞতা নিন, তারপর পোর্টফোলিও তৈরি করুন, এরপর ক্লায়েন্ট খুঁজুন — এই চারটি ধাপ মেনে চললে সাফল্য অনিবার্য। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য online income-এর এর চেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ খুব কমই আছে।

আজই wordpress.org-এ যান, একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলুন, এবং প্রথম ওয়েবসাইট তৈরির যাত্রা শুরু করুন। প্রথম পদক্ষেপটাই সবচেয়ে কঠিন — বাকিটা সময়ের সাথে সহজ হয়ে যাবে।

👉 আরও গাইড, টিউটোরিয়াল এবং ওয়েব ডিজাইন টিপসের জন্য ভিজিট করুন: https://webnewsdesign.com/blog/

FAQ: সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন : কোডিং না জেনেও কি ওয়ার্ডপ্রেস শেখা সম্ভব? হ্যাঁ, একদম সম্ভব। Elementor বা Divi-র মতো পেজ বিল্ডার দিয়ে কোনো কোডিং ছাড়াই পেশাদার ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। তবে HTML/CSS-এর বেসিক জ্ঞান থাকলে আরও বেশি সুবিধা পাবেন।

প্রশ্ন : ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে মোট কত টাকা খরচ হবে? শুরুতে ডোমেইন ও হোস্টিং মিলিয়ে বার্ষিক ৩,০০০-৬,০০০ টাকার মতো লাগতে পারে। শেখার জন্য YouTube-এর বিনামূল্যে রিসোর্স ব্যবহার করলে অতিরিক্ত খরচ নেই।

প্রশ্ন : ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কি কমার্স সাইট বানানো যায়? অবশ্যই। WooCommerce প্লাগিন দিয়ে পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স সাইট তৈরি সম্ভব। পণ্য যোগ করা, পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করা, অর্ডার ম্যানেজ করা — সব করা যায়।

প্রশ্ন : ফ্রিল্যান্সিং ছাড়া আর কী কী উপায়ে ওয়ার্ডপ্রেস থেকে আয় করা যায়? নিজের ব্লগ তৈরি করে AdSense বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয়, ওয়ার্ডপ্রেস থিম বা প্লাগিন তৈরি করে বিক্রি, অনলাইন কোর্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি, ওয়েব হোস্টিং রিসেলার ব্যবসা — এছাড়াও আরও অনেক পথ আছে।

প্রশ্ন : ওয়ার্ডপ্রেস সাইট হ্যাক হলে কী করব? প্রথমে Wordfence বা Sucuri দিয়ে ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন। সব পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন, ওয়ার্ডপ্রেস এবং প্লাগিন আপডেট করুন, এবং সর্বশেষ ব্যাকআপ থেকে রিস্টোর করুন। ভবিষ্যতে এড়াতে নিয়মিত ব্যাকআপ এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

 

Facebook Comments Box

© 2013 - 2026 webnewsdesign.com. All Rights Reserved.